ডাকপিয়ন

সন্ধ্যর নাট্যশালা

সিদ্দিকী হারুন:

শহর জুড়ে প্রেতাত্মার চোখের মতো সান্ধ্য অন্ধকার
রাস্তার দু’পাশে সবগুলো দরজা বন্ধ।
মাঝ রাজপথ ধরে হেঁটে যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি
অবশেষে দরজায় দরজায় ডাকি, এক ফোঁটা
তৃষ্ঞার জল… কেউ খোলে না।
আবছা আঁধার ঢেকে দিয়ে ভয়াবহ কুয়াশা নামে
কুকুরের কান ঝাড়ার মতো নিজেরই হাঁটার শব্দ
সবে তো সন্ধ্যা, এরিমাঝে গাঢ় নৈঃশব্দের
বুকফাটা অতলান্তিক ক্রন্দন ঝিঁঝিঁপোকা বাজে।
অকস্মাৎ রক্তের ভেতরে অসহনীয় শীত জেগে ওঠে
এই সন্ধ্যায় ঘুমোনো যায় বলো? শীতল
শিশিরভেজা গীতল অশ্রুর মতো
ফোঁটা ফোঁটা ভেজা রাজপথে!
অথচ পুরো শহর ঘুমোয়, ঘুমঘুম
বন্ধ ডাকবাক্সের মতো আপন প্রাণভোমরা কৌটোর ভেতরে পুরে।
আজ বহুবছর পরে, আজন্ম পরিচিত শহরে
এই আথিতেয়তা আমার!
আর তবে কই যাই বলো! শেষ পর্যন্ত
চলে আসি আমার সান্ধ্য নাট্যশালায়…
সেখানে হালকা আঁধারের বুকে কতিপয়
জোড়া জোড়া অশরীরী চোখ দ্যাখো ভাসে।
আমার দিকে বাড়িয়ে দ্যায় তারা এক
লালচে ভোজালি।
বুকের ভেতরে ধারণ করো এটা, আর নয়
শুরু করো এইবার তবে মারণ অভিনয়?

আরও পড়ুন...

আশ্চর্য ছন্দপতন !

ঝলক গোপ পুলক

মা

ঝলক গোপ পুলক

আমার মা

ঝলক গোপ পুলক