ডাকপিয়ন

সাংবাদিক রেজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতীয় মিডিয়া

বাংলাদেশে দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সম্প্রতি যেভাবে সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে তীব্র হেনস্তার পর গ্রেফতার করা হয়েছে, ভারতের সংবাদমাধ্যমেও তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। ভারতের প্রায় সবকটি শীর্ষস্থানীয় খবরের কাগজ ও জাতীয় টিভি চ্যানেলে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ভারতের বহু সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মী যেমন তার প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন বছর তিনেক আগেও যখন বাংলাদেশের নামী আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক-অ্যাক্টিভিস্ট শহীদুল আলম গ্রেফতার হয়েছিলো। রোজিনা ইসলামের বেলাতেও অনেকটা সেই একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তখন শহীদুল আলমের সমর্থনে মানববন্ধনও করেছিলেন মুম্বাই প্রেস ক্লাবের সদস্যরা।

করোনা মহামারির সেকেন্ড ওয়েভে নাজেহাল ভারতে এই মুহূর্তে প্রতিবাদ-আন্দোলনের তীব্রতা অনেকটাই স্থিমিত, তারপরও রোজিনা ইসলামের সমর্থনে প্রবলভাবেই সরব দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম । দিল্লি ও কলকাতার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকার শিরোনাম চোখে পড়লেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’ যেমন সরাসরি লিখেছে, সরকারের দুর্নীতি ফাঁস করার ‘অপরাধেই’ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। তার একের পর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি যে সর্বসমক্ষে এসেছিল, সে কথাও উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।

এনডিটিভি-র হোমপেজে তাদের কলকাতা প্রতিনিধি মণিদীপা ব্যানার্জি লিখেছেন, সচিবালয় থেকে তথ্য ‘চুরি’ করার অভিযোগে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হেনস্তা করা হয়েছে। রোজিনা ইসলামের সমর্থনে ঢাকার সাংবাদিকরা যেভাবে পথে নেমেছেন ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যে মহিলা সাংবাদিকরা কর্মরত, তাদের একটি জোটের নাম ‘দ্য সাউথ এশিয়ান উইমেন ইন মিডিয়া’ (এসএডব্লিউএম)। এই প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকেও রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করা হয়েছে।

ভারতের ‘ইন্ডিয়া টুডে’ লিখেছে, বাংলাদেশের একজন প্রথম সারির অনুসন্ধানী সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি গোপনীয়তা আইনে (অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট) – অথচ তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের এই সংক্রান্ত খবরের শিরোনাম করেছে : ‘গ্রেফতার নামী সাংবাদিক, বিক্ষোভ বাংলাদেশে’। তারা আরও লিখেছে, ‘বাংলাদেশের একটি প্রথম সারির সংবাদপত্রের সাংবাদিক রোজিনা বরাবরই স্বাস্থ্য মন্ত্রকসহ অন্যান্য মন্ত্রকের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করেছেন। সাংবাদিকদের বক্তব্য, সেই আক্রোশ থেকেই গ্রেফতার করা হল তাকে।’

সর্বভারতীয় দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’ও তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ফাঁস করার মূল্যই চোকাতে হচ্ছে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে।

ভারতের প্রথম সারির ম্যাগাজিন ‘আউটলুক’ আরও তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেছে, এই মহামারির মধ্যেও যেভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেলেঙ্কারি ফাঁস করা জোরালো প্রতিবেদনগুলোর জন্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতার করা হল, তা সমালোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের ‘ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা’রই আর একটি প্রমাণ।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকার বিবরণ অনুযায়ী, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অনুমতি ছাড়াই তার মোবাইল ফোন দিয়ে একটি ডকুমেন্টের ছবি তুলেছিলেন। শুধুমাত্র সে কারণে তাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং মধ্যরাতে একটি ঔপনিবেশিক যুগের আইনে অভিযোগ এনে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

 

আরও পড়ুন...

বাংলাদেশের ৮ শান্তিরক্ষীকে পদক দিলো জাতিসংঘ

ঝলক গোপ পুলক

পদত্যাগ করলেন কানাডার প্রতিরক্ষাপ্রধান

admin

করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতায় প্যারাগুয়ের তিন মন্ত্রী বরখাস্ত

admin