ডাকপিয়ন

একজন শেখ হাসিনার জীবনে ১৭ই মে

দ্বিপায়ণ দীপ্ত:

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। এই ঘৃণ্য কালো রাতে স্বপরিবারে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন, তখন তার জ্যেষ্ঠকন্যা শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু জামাতা ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহেনা তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করছিলেন । বিদেশে ছিলেন বলেই তারা রক্ষা পেয়েছিলেন। সেদিন তাঁরা বেঁচে গিয়েছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এবং এই অপ্রতিরোধ্য যাত্রার সারথি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা।
অভিভাবক হারানো শেখ হাসিনার এই যাত্রাপথে ছিলো কণ্টকাকীর্ণ পথ। সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে পা রাখেন পিতার নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়া রাষ্ট্রে, যেখানে তাঁর পিতাকে হত্যা করা হয়েছে স্বপরিবারে। আমরা যেমন দেখি অভিভাবকহীন সন্তানের প্রতি পরিজনের বঞ্চিত করার অভিপ্রায় তার ব্যতিক্রম ঘটে নি বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যাদের ক্ষেত্রে। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি তার চেয়েও বেশি অমানবিকভাবে মানসিক নির্যাতন করেছে সেইসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা শাসকগোষ্ঠী । একদিকে পরিবার হারানোর বেদনা অপরদিকে জীবনে ঠিকে থাকার সংগ্রাম উভয়ই মোকাবিলা করতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। সেই সময়ের নির্মম কষ্টের দিনগুলো শেখ হাসিনার হাসিনার মনোবলকে করেছে ইস্পাত-দৃঢ়।

যার দরুন প্রচুর মানষিক কষ্টের মধ্যেও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার দুর্দশার দিনে তিনি দূরে থাকতে পারেন নি। ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে অবস্থানরত অবস্থায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। উদ্দেশ্য শেখ হাসিনা বিভক্ত আওয়ামীলীগকে ঐক্যের ছায়াতলে নিয়ে আসতে পারবেন। দেশে ফেরানোর জন্য শেখ হাসিনাকে দেওয়া হলো আওয়ামীলীগের সভাপতির গুরুদায়িত্ব। তখনকার সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পিতৃহারা কণ্যা দেশের মাটিতে পা রাখবেন অনেকেই তা কল্পনা করতে পারেন নি। কিন্তু তিনি যে বঙ্গবন্ধু কন্যা !

ওরকম ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা তার পক্ষে নিরাপদ হবে কিনা- জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “সেই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। আমি হয়তো একটু ঝুঁকি নিচ্ছি। কিন্তু আমার বাবা যে-আদর্শের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন তা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ঝুঁকি নিতেই হবে।”
সেদিনের তাঁর ঝুঁকি প্রতিরোধে ব্যর্থ হলো তৎকালীন সামরিক শাসকের সকল অপকৌশল। শেখ হাসিনাকে বরণ করতে গণজোয়ারে সামিল হলেন অসংখ্য মানুষ। সেদিনের স্লোগানের মধ্যে এাটি ছিল “হাসিনা তোমার ভয় নাই – আমরা আছি লক্ষ ভাই” অন্য সব স্লোগানের মতো এটি নিছক স্লোগান নয়। তার প্রমাণ দৃশ্যমান হলো বারবার। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনার উপর যখন নির্বিচারে গুলি ছোঁড়া হয় তখন লক্ষ ভাই শক্ত মানব দেয়াল তৈরী করে তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচালেন। তারপর ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ভয়ানক সেদিন আবারো ভাইদের আত্মত্যাগে বেঁচে গেলেন মৃত্যুঞ্জয়ী নেত্রী শেখ হাসিনা, আমৃত্যু জন্য হলেন ঋণী।

নির্বাসিত ৬ বছরের জীবন শেষে শেখ হাসিনা বাংলার মাটিতে আবেগাপ্লুত। মা-বাবা, ভাই, স্বজনহারা বঙ্গবন্ধু তনয়ার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ বয়ে যায়। শেখ হাসিনা কাঁদেন, তাঁর কান্নার সাথে প্রকৃতি আঁধার হয়ে যায়। আকাশ কালো মেঘে, সেই সাথে মুষলধারে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির জল আর চোখের জল একসাথে পড়তে থাকে লাল-সবুজের বাংলার মাটিতে। ভীষণ অপরুপ প্রকৃতির রুপ সেদিন শেখ হাসিনার সাথে একাকার হয়ে যায়।
শেখ হাসিনার জন্য সেদিন অনুমতি ছিল না ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় প্রবেশের। এই নির্মম অত্যাচারে তখন কিছুই করার ছিলো না। বাসার সামনে দাড়িয়ে কাঁদলেন বঙ্গবন্ধু তনয়া। একেক ফুটা অশ্রু দিয়ে তিনি গড়তে লাগলেন ইতিহাস। পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হবে। তখন বাংলাদেশে চলছে পাকিস্তানের ভাবাদর্শ। ভুলণ্ঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধান। চারিদিকে শুধু অরাজকতা।

এইসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অসংখ্যবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন সাধারণ শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের অসাধারণ প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনা যেমন দূরদর্শী, বিচক্ষণ নেতৃত্বে সারা বিশ্বে সমাদৃত ঠিক তেমনি তাঁর ব্যক্তি জীবনে অনন্য গুণের অধিকারী সাধারণ বাঙ্গালি জননী রুপে। রাজনীতির ময়দানে শেখ হাসিনা নীলকন্ঠের অধিকারী। করেছেন মা-বাবা, পরিবার হত্যার বিচার। লাল সবুজের পতাকা যারা ক্ষতবিক্ষত করেছিলো ৭১ এর রাজাকার, ৭৫ পরবর্তীতে স্বাধীন দেশের চেতনাকে যারা নষ্ট করেছে যুদ্ধপরাধীদের বিচার।

শেখ হাসিনা ৪০ বছর আগের আজকের দিনে ফিরে এসেছিলেন বলেই বাংলার ভাগ্যাকাশের গঠেছে পরিবর্তন। তিনি স্বপ্ন দ্যাখেন, সেই সাথে আমাদের ও স্বপ্ন দ্যাখান। তিনি হাসলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার শিশু থেকে প্রৌঢ়বয়সী সবাই হাসে। ক্লান্তিহীন এক মহীরুহ তিনি, নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। হয়তোবা মাঝেমধ্যে অভাব বোধ করেছেন আদর্শ আনুগত্যের সমান কিছু সহচরীদের, তা হলে তাঁর এই নিরলস পরিশ্রমের সুফল এর পথ খুব সহজলভ্য হতো মানুষের কাছে ।

আরও পড়ুন...

জার্নালিজম ইজ নট এ ক্রাইম

ঝলক গোপ পুলক

চলছে মধুমাস

ঝলক গোপ পুলক

এলো খুশির ঈদ

ঝলক গোপ পুলক