ডাকপিয়ন

” মা ” ভবিষ্যতের বুনিয়াদ

দ্বিপায়ন দীপ্ত:

‘মা’ একটি শব্দ মাত্র, কিন্তু এই শব্দের বিস্তৃতি বিশাল। জঠরের প্রথম অনুভূতি থেকে মা বুনতে থাকেন সন্তানকে ঘিরে স্বপ্ন, সম্ভাবনা। আর সন্তানের প্রথম স্পর্শ থেকে প্রথম সবকিছুই হয়ে থাকে মায়ের মাধ্যমে। এমনকি জীবনের কঠিন দুর্যোগের দিনেও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হচ্ছেন ‘মা’।

জোয়ান হেরিস বলেছেন,
“সন্তানেরা ধারালো চাকুর মত। তারা না চাইলেও মায়েদের কষ্ট দেয়।আর মায়েরা তাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত সন্তানদের সাথে লেগে থাকে।”

নির্মম সত্য এই কথাটি মনের গভীরে বারবার দাগ কেটে যায়। আমরা সন্তানেরা কারণে অকারণ মা’কে কষ্ট দেই। কিন্তু এই কষ্টের বিপরীতে মায়েদের কোনো অভিযোগ থাকে না, কখনো বা থাকে শুধু সাময়িক অভিমান। মায়ের প্রার্থনার সবটা জুড়ে থাকে সন্তানের সুখ, শান্তি, সাফল্য। আমরা পাঠ্যবইয়ে পড়েছিলাম, দেবীর কাছে সাধারণ এক মায়ের প্রার্থনা ছিলো “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”

আজ ‘মা’ দিবস। সকাল থেকে ফেসবুক হোমপেইজ জুড়ে মায়ের প্রতি ভালোবাসা, সমস্ত মায়েদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছেন সন্তানেরা। ফেসবুকের আজকের এই দিনটি আমাদের মায়েদের!

প্রতিদিনের মতো আমাদের মায়েরা আজও ব্যস্ত থাকবেন নিত্য কাজে। এইসব ‘দিবস’ তাঁদের কানে পৌঁছালেও ভালোবাসা খুঁজে পান সন্তানের আচরণে। দু-চোখ দিয়ে যখন সন্তানের হাসিমাখা মুখ দেখেন তখন মা হয়ে যান পৃথিবীর সুখী মানুষদের একজন। মা’কে ভালোবাসি বলতে হয়৷ না। সন্তান যখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মায়ের দেওয়া শিক্ষা, নৈতিকতা মেনে চলেন তখন মা বুঝেন সন্তানের অব্যক্ত ভালোবাসার আওয়াজ।

মা হচ্ছেন দৃঢ়চেতা বিশাল মহীরুহ। ঈশ্বর প্রাকৃতিক ভাবে মায়েদের দিয়েছেন অসীম ক্ষমতা। মায়েরা মমতা দিয়ে জয় করেন কতকিছু। নীরবে আড়াল করেন গভীর বিষাদ। মনের দিক দিয়ে কঠিন মা সন্তানের জন্য হয়ে থাকেন সহজ, সুন্দর। মায়েরা আপন সুর বাঁধেন। সেই সুর দিয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিবিড়ভাবে আগলে রাখেন সবকিছু। ছন্দের মতো জীবন মায়েদের। একেকজন মা একেকটি কবিতা, উপন্যাস বা তার-ও অধিক!

সেই মা’কে বয়সের সংখ্যায় একদিন ক্লান্ত হয়ে যেতে হয়। গভীর মমতায় জড়িয়ে থাকা সন্তান সংসার পরিণত হয় দীর্ঘশ্বাসে। মা হয়ে যান নিঃসঙ্গ, চাইলেও বলতে পারেন না অনেক কথা। সন্তানের সুখের জন্য সেই দীর্ঘশ্বাস থাকে নিরবে।

আমরা সন্তানেরা অবশ্যই মায়ের নীরবতার ভাষা বুঝতে পারা হবে মায়ের সুখের কারণ। মায়ের অনুভূতি বুঝতে হলে গানের ভাষায় বলতে হয়,
“আমার শিরায় শিরায় রক্তের ধ্বনি
শরীর আধারে মা জননী
তোমায় জন্ম দেওয়ার ব্যাথা না পাইলে
তোমার জন্ম শব্দ পাব না
তোমার কথা শুনতে পাবনা”

আরও পড়ুন...

সাধুদের প্রতি অন্ধবিশ্বাস

ঝলক গোপ পুলক

কাঠ গোলাপের বৃষ্টি

news dakpiyan